নাগেশ্বরীর সংগীতগুরুর সাফল্য: জলিলের হাত ধরে বেতারে শিষ্যদের পথচলা

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর বালাটারী গ্রামের আব্দুল জলিল। বয়স ৬৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বাঁশি বাজানোর পাশাপাশি সংগীত শিক্ষক হিসেবে কাজ করে আসছেন তিনি। নিজের প্রতিভা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে গড়ে তুলেছেন একাধিক সংগীতপ্রেমী শিক্ষার্থী। তিনি নাগেশ্বরী উপজেলার স্বনামধন্য ঐতিয্যহবাহী ভাওয়াইয়া গানের প্রতিষ্ঠান ভাওয়াইয়া একাডেমীর সংগীত শিক্ষক।

উপজেলার বালাটারী গ্রামের মৃত নছিমামুদের ছেলে আব্দুল জলিল। তিনি ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ। সেই আগ্রহ থেকেই বাঁশি বাজানো শেখা এবং পরবর্তীতে সংগীতচর্চাকে জীবনের অংশ করে নেন তিনি।

দীর্ঘ সংগীত জীবনে তিনি শুধু নিজেই বাঁশির সুরে মুগ্ধতা ছড়াননি, বরং নতুন প্রজন্মের মাঝে সংগীতের জ্ঞান ও চর্চা ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার কাছে সংগীত শিক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে শারমিন আখতারসহ কয়েকজন ইতোমধ্যে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে তার শিষ্য সংবাদকর্মী শফিকুল ইসলাম শফি ও জাহাঙ্গীর আলম বাংলাদেশ বেতার, রংপুর কেন্দ্রের নিয়মিত ভাওয়াইয়া শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করছেন। এতে আনন্দিত সংগীতগুরু আব্দুল জলিল। তিনি মনে করেন, একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো তার শিক্ষার্থীদের সফলতা। সামনে আরো অনেকে বড়মানের শিল্পী তৈরী হবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয়রা বলছেন,প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকেও ভাওয়াইয়া একাডেমীর সংগীত শিক্ষক আব্দুল জলিল দীর্ঘদিন ধরে সংগীতচর্চা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তার হাত ধরে আরও অনেক প্রতিভাবান শিল্পী তৈরি হবে—এমন প্রত্যাশা সংগীতপ্রেমীদের।